আইটি শিক্ষা মেনু

ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির সেরা ৫ টি টিপস

যে কোন ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পাওয়ায় হচ্ছে যেকোন ব্লগার বা ওয়েবমাষ্টারের জন্য প্রধান চ্যালেন্জ। অধিকাংশই অনপেজ এসইও  অফপেজ এসইও এর উপর মনোনিবেশ করলেও ডোমেইন অথিরিটি নিয়ে অনেকেই মাথা ঘামান না। অনপেজ ও অফপেজ এসইও সাময়িক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও দীর্ঘমেয়োদী ট্রাফিক পাওয়ার জন্য ডোমেইন অথরিটি গুরুত্বপুর্ণ। আগে গুগলে যেসকল সাইটের পেজ র‌্যাংকিং উপরে থাকত সে সকল সাইটকে উপরে দেখাত । সেই যুগ এখন নেই । আমি আশা করতে পারি ডোমেইন অথরিটি ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার ধারণা হয়ে গেছে । আপনি চাইল নিদির্ষ্ট কিছু কৌশল অবলম্বন করে খুব সহজে ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি করতে পারেন । ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির জন্য ধীরে ধীরে সম্পুর্ণ নিবন্ধটি পড়ুন

ডোমেইন অথরিটি কি?

কোন ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে সর্বোচ্চ রেংক এ থাকবে তা ডোমেইন অথরিটির মাধ্যমে সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করা যায়। আপনার ওয়েবসাইটটির ডোমেইন অথরিটি যদি ৩৫ বা তার উপের হয় তবে সার্চ ইঞ্জিনে নিদির্ষ্ট কিছু সাধারণ শব্দে সার্চ ইঞ্জিনে প্রথমে আসবে বরে বিবেচনা করা যায়। ডোমেইন অথরিটির লগারিদম অনুসারে আপনার সাইটের সাথে লিংকডকৃত ডোমেইনের সংখ্যা যা আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজকে লিংক করেছে তার উপর নির্ভর করে । অনেকেই লিংকের ক্ষেত্রে হোম পেজের লিংক দিয়ে আসেন ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে নিদির্ষ্ট পেজের সাথে লিংকড করা। ডোমেইন অথরিটি গণনা করার জন্য বিভিন্ন ফ্যাক্টরকে নির্ধারণ করা হয় যেমন ডোমেইনের সংখ্যা, মোট লিংকের সংখ্যা, মোজ র‌্যাংক, মোজ ট্রাষ্ট ইত্যাদি ।
ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধির সেরা ৫ টি উপায়

লিংকের ব্যবহার
আপনি যদি বিশ্বস্ত(Authoritative) সাইট তৈরী করতে চান তবে আপনার ওয়েবসাইটটি এমনভাবে ডিজাইন করুন যেন আপনার ওয়েবসাইটের সবগুলো ভিতরের পেজ প্রত্যেকটি প্রত্যেটির সাথে যুক্ত থাকে । আপনার ওয়েবসাইটের সকল পেজ এসইও এর জন্য নিদির্ষ্ট কিওয়ার্ডের ভিত্তিতে অপটিমাইজড করুন । গুগল যেন বুঝতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরের প্রত্যেকটি পেজও সমানভাবে গুরুত্বপুর্ণ। তাই নিজের ওয়েবসাইটের ভিতর ইন্টারনাল লিংক করা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। ভিতরের প্রত্যেকটি পেজের বিশ্বস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। যা আপনার ওয়েবের ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি করবে । আসুন দেখে নেই এই কাজটি কিভাবে করতে পারি

  • আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজের মধ্যে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ডের মাধ্যমে আপনার ওয়েব সাইটের অন্য পেজের সাথেও লিংকড করুন।
  • এক পেজ থেকে অন্য পেজে ব্যাকলিংক প্রদান করুন । নিশ্চয় বুঝতে পারেন নি? ধরুন আপনি যেই পেজে লিখছেন সেই পেজের পেজর‌্যাংক ১ এবং আপনার ওয়েবসাইটের আর একটি পেজের পেজ র‌্যাংক ২ । পেজ র‌্যাংক ২ তে পেজ র‌্যাংক ১ এ ব্যাকলিংক প্রদান করুন ।
  • ভিতরের পেজ এ লিংক যুক্ত করার সময় কিওয়ার্ডের কিছু পরিবর্তন আনুন। যেমন লিংক করার সময় কিছু ছোট কিওয়ার্ড, কিছু লংকিওয়ার্ড ব্যবহার করুন
  • অন্য ওয়েবসাইট থেকেও উচ্চ মান সম্পন্ন ব্যাকলিংক পাওয়ার চেষ্টা করুন । বাহিরের ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংকের সময়ও কিওয়ার্ডের বৈচিত্রতা আনুন। আর হোম পেজের লিংকের পরিবর্তে নিদিষ্র্ট পেজের লিংক ব্যবহার করুন
  • ব্রোকেন লিংক বা অপ্রয়োজনীয় লিংক নিয়মিত চেক করুন।

সবসময়ঁ মনে রাখবেন আপনার ওয়েবসাইটে বা ব্লগে নিয়মিত আর্টিকেল, প্রেস রিলিস যখন প্রয়োজন হয় লিখুন । তবে এতটুকু নিশ্চিত করবেন যেন লেখার মান খারাপ না হয়।

লিংকে বৈচিত্রতা
এটি মুলত অফপেজ এসইও এর ধারণা । ডোমেইন অথিরিটির জন্য লিংক বৈচিত্র আপনাকে ভালভাবে বুঝতে হবে । লিংকের বৈচিত্রতা এসইও টার্মের (দেখুন: এসইও এর বিভিন্ন টার্ম) অন্তর্ভুক্ত যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট লিংকের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে নির্ধারণ করবে । আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট থেকে একই ধরনের লিংক বারবার পেতে চান তবে গুগলের কাছে গুরুত্বপাবনে না । তাই সবচেয়ে ভাল হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা। তাহলে প্রতিটি লিংক আলাদা আলাদা স্বত্তা হিসাবে বিবেচিত হবে ।

এর সবচেযে ভাল উদাহরণ হতে পারে ওয়েবমাষ্টাররা বিভিন্ন ডুফলো ব্লগে কমেন্টস করেন (দেখুন ব্লগ কমেন্টের নিয়ম) তাদের নিদির্ষ্ট পেজে ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য ।তবে এটি মনে রাখা উচিত সবসময় একই উৎসতে কমেন্টস বা ব্যাকলিংক নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত ব্যাকলিংক লিংকে বৈচিত্রতা সৃষ্টি করে এবং নিদির্ষ্ট পেজকে সার্চ ইঞ্জিনে উচ্চ অবস্থানে আনতে সহায়তা করে। গুগল কখনোই বিবেচনা করে না লিংকটি কোন ধরনের সেটা কি কমেন্টসে নাকি আর্টিকেল এ । তাই গেষ্ট ব্লগিং, কমেন্টস এবং ডিরেক্টরি সাবমিটের মাধ্যমে নিদির্ষ্ট পেজের ব্যাকলিংক বৃদ্ধি করুন ।

অনেক সময় ব্লগাররা কন্টেন্টের মধ্যে ২/৩ টি লিংক প্রদান করেন । এই সকল ক্ষেত্রে একটু কৌশলী হওয়া প্রয়োজন। যেমন ৩ টি লিংকের ক্ষেত্রে একটি আপনার ওয়েবসাইটের নিদির্ষ্ট পেজের সাথে, একটি নিদির্ষ্ট ক্যাটাগরীর সাথে ,একটি হোম পেজের সাথে লিংক প্রদান করুন ।

কন্টেন্টের মান
যে কোন ওয়েবমাষ্টারের অবশ্যই জানা উচিত উচ্চমান সম্পন্ন কন্টেন্ট গুগলের শীর্ষে থাকে। তাহলে প্রশ্নআসতে পারে এটি কিভাবে ডোমেইন অথরিটির সাথে যুক্ত ?? উত্তর হচ্ছে, গুগল পান্ডা আপডেট হওয়ার পর বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাদের অথরিটি হারিয়েছে, কারণ তাদের কম মান সম্পন্ন আর্টিকেলের কারণে। আপনি যদি উচ্চ মান সম্পন্ন আর্টিকেল লিখেন তবে ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইটটিকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের লিংক বৃদ্ধি করবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করবে । ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের মান বৃদ্ধি করার জন্য আরও কিছু বিষয় আছে

১.নকল কন্টেন্ট বাদ দিন
২.ফ্রেশ এবং মৌলিক কন্টেন্ট লিখুন
৩. নতুন পাঠকদের জন্য কিছু লিখুন
৪. আপনার ওয়েবসাইটের কিওয়ার্ডের ঘনমাত্রা ঠিক রাখূন । কোনভাবেই অতিরিক্ত কি ওয়ার্ড ঘনত্ব ব্যবহার করবেন ।
৫. আপনার ওয়েবসাইটের গ্রামার ও বানান ঠিক রাখুন
৬. অসাধারণ তথ্য সমৃদ্ধ আর্টিকেল লিখুন
৭. ব্যবহারকারীদের জন্য লিখুন , সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লিখবেন না
৮. অনেক বেশী বিজ্ঞাপন , প্রমোশনাল লিংক ব্যবহার করবেন না
৯. টাইটেল ও মেটা ট্যাগ সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
১০. সেই বিষয় সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক লিংক এবং সাজেষ্ট করুন ।

এছাড়াও আরও অনেক র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর আছে যা আপনার ব্লগকে অন্য ব্লগ থেকে জনপ্রিয় করবে । আপনার প্রতিযোগীদের সঠিকভাবে পর্যবেক্ষন করুন । তাছাড়া মান সম্পন্ন ভিডিও তৈরী করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে হোষ্ট করার মাধ্যমে আপনার সাইটের বিশ্বস্ততা বৃদ্ধি করুন ।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার বৃদ্ধি করুন

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন ফেসবুক, টুইটার, স্টাম্বল আপন,রেডিট, পিনটারেষ্ট যদি আপনার ওয়েবসাইটের শেয়ার ও লাইকের পরিমান বৃদ্ধি পায় তবে গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে এগিয়ে রাখবে । সাম্প্রতিক সময়ে সো্শ্যাল মিডিয়া র‌্যাংকিং নিয়ে অ্যলগরিদম আপডেট অনুসারে আপনার সাইট যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক জনপ্রিয় হয় তবে আপনার সাইটের অথরিটি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে এবং তা সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং এ প্রভাব ফেলবে ।

আপনার সাইটকে বুড়ো হতে দিন
আপনি এক মাস বয়সী একটি সাইটের সর্বোচ্চ অথরিটি র‌্যাংক আশা করতে পারেন না । ডোমেইন অথরিটি সাইটের বয়স এবং জনপ্রিয়তার উপর ও নির্ভর করে। আপনি যখন সাইটে পর্যাপ্ত আর্টিকেল যুক্ত করবেন তখন উচ্চামানের ব্যাকলিংক এর কথা চিন্তা করুন । যত বেশী কন্টেন্ট আপনার ওয়েবসাইটে থাকবে ততবেশী আপনি জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন ।

কিভাবে ডোমেইন অথরিটি চেক করবেন
আমি ব্যাক্তিগতভবে এসইওমজ টুলবার ব্যবহার করি যা আপনাকে ডোমেইন অথরিটি, পেজ অথরিটি এবং আরও অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করবে । তাছাড়া অনলাইনে অনেক জনপ্রিয় টুলস সাইট আছে আপনি পেয়ে যাবেন। মুনসি(Moonsy.com) এর মাধ্যমেও ফ্রি ডোমেইন অথরিটি চেক করতে পারবেন ।

সর্বশেষ কিছু কথা, শুধু মাত্র ব্যাকলিংক নয়, আরও অসংখ্য ফ্যাক্টর আছে যার উপর নির্ভর করে ডোমেইন অথরিটি। আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের কিছু তথ্য বুঝাতে পেরেছি ।

মেহের নিগার
চলার পথে কখন প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি জানি না । আইটি শিক্ষায় আমাকে প্রযুক্তির পথে দিয়েছে উৎসাহ আর অনুপ্রেরনা। তাই আইটি শিক্ষার জন্য লিখি। ধন্যবাদ আইটি শিক্ষাকে ।

No comments

Leave a Reply

ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের পোষ্ট সমুহ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ফেইসবুকে আমরা