আইটি শিক্ষা মেনু

পবিত্র হজ্বে হাজীদের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস

পবিত্র হজ্বে হাজীদের পদপিষ্টে হাজীদের মৃত্যূ আলোচিত হচ্ছে ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন ওয়াল। আসুন দেখে নেই কে কি ভাবছেন এই মৃত্যু নিয়ে। আসুন জেনে নেই। এই স্ট্যাটাসগুলো বিভিন্ন জনের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। এর দ্বায়ভার একান্তই লেখকের নিজস্ব। এর সাথে কোনক্রমেই আইটি শিক্ষা যুক্ত নয় ।

নুর নবী দুলাল ভাষায়,
সৌদি আরবের সৌদ পরিবার তথা রাজপরিবার তথা বাদশা ইসলামের একমাত্র খতিব সেবক ( প্রধান সেবক)। কাবার নেতৃত্ব আরবের যে পরিবারের কাছে থাকে তারাই খতিব সেবক হয়। ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমনটাই হয়ে আসছে। তাই হজ্বে দূর্ঘটনা সম্পর্কিত সৌদ বংশের বাদশা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যা বলবেন সেটাই ইসলামের নির্দেশিত সত্য বলে বিশ্বের সকল মুসলিম সম্প্রদায়কে মেনে নিতে হবে। যারা মারা গেছে তারা নিশ্চিত বেহেস্তে যাবে। অবশ্যই হাজীদের শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের চেয়ে সৌদি যুবরাজের সফর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যারা এর মধ্যে চক্রান্ত খুঁজে বেড়ায় তারা সবাই ইসলামের শত্রু। ইউরোপ, আমেরিকা, জাতিসংঘ এবং এসব দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো দুই দফায় এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পরও হজ্ব ব্যবস্থাপনায় কোন ত্রুটি খুঁজে পায় নাই। তারা মনে করে না এখানে মানুষের কোন ধরনের অধিকারের ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই, ওরা ইসলামের বন্ধু। শুধুমাত্র ইরান, ইন্দোনেশিয়া আর কয়েকজন বাঙালী নাস্তিকের এ বিষয়ে ব্যাপক চুলকানী। এরা সবাই ইসলামের শত্রু।
[ব্লাসেফেমী আইনে ফিল্টারকৃত স্ট্যাটাস]


আলী আবরার দ্বীপ এর মতামত

সবাই যখন কুরবানি দিতে ব্যস্ত, তখন মিনাতে ৭০০ (মতান্তরে ১৩০০+) হাজির মৃত্যুর সংবাদ।
ইরানীয় বার্তাসংস্থা এফএনএ এর বার্তানুযায়ী, সৌদি যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিশাল গাড়িবহরের জন্য জায়গা করে দিতে একটা গেট বন্ধ করে দেয়াতে মিনায় হাজীরা পদদলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। যুবরাজের নিরাপত্তা বহরে সেনা, পুলিশসহ ৩৫০+ নিরাপত্তাকর্মী ছিলো, যারা শয়তানের দিকে পাথর মারতে যাওয়া হাজিদের সরিয়ে দিয়ে রাস্তা করে দিচ্ছিলো। তাদের ধাক্কাধাক্কিতে হাজিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
যদি শয়তানের বদলে সৌদি প্রিন্সকে পাথর ছুড়ে মারার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেই পাথর মারার জন্যে হলেও একদিন আমি হজ্বে যাবো।
অদৃশ্য শয়তানের বদলে দৃশ্যমান এই শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারলে মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই অখুশি হবেন না। এরপরেও যেসব নির্বোধেরা সৌদী রাজতন্ত্রের পা চাটা কুকুরদের হয়ে দালালী করতে আসে তারা ধ্বংস হোক।


ফাহিম বিন মোমিন এর জবানীতে
৭১৭ জন,
সর্বপ্রথম আল্লাহ্‌ তাদের বেহেশত নসিব করুক। আল্লাহ্‌ আমাদের জন্ম মৃত্যুর দিন ক্ষণ যখন যেভাবে লিখে দিয়েছেন সেভাবেই হবে। যাকে যেখানকার মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন সে যেকোনো ভাবেই সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবে। এ নিয়ে তর্ক বিতর্কের কিছু নেই সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছা। আল্লাহ্‌র রাসুলের জন্মস্থানে তাঁরা শায়িত হবেন। যে যাই বলুক না কেন সৌভাগ্যজনক অবশ্যই।
এহরাম পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু,
হাশরের মাঠে তারা থাকবেন সেই এহরাম পরিহিত অবস্থায়।
আর কি চাই পরকালে? এ নিয়ে ফেসবুকে অযথা আকাইম্মা স্ট্যাটাস আর দাঙা হাঙ্গামার কি দরকার!!!


সিডাটিভ হিপনোটিক্স এর মতামত

সৌদি প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালালে লাক্সারি ইয়াট এর দাম ১০০ মিলিয়ন ডলার। এতই বড় আর লাক্সারিয়াস যে এটা জেমস বন্ড মুভি করার জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছিলো। প্রতি বছর ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় এটার দেখভালের জন্য।
সৌদি পরিবার অবকাশ যাপনের জন্য মালদ্বীপের তিনটা নিজস্ব রিসোর্টে গিয়ে খরচ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এগুলা হোটেল টাইপ রিসোর্ট না, আস্ত একেকটা দ্বীপ।
এমিলেয়ে লারসন, পার্ট টাইম শোফার সৌদি পরিবারের জন্য বরাদ্দ হয়েছিলো। লারসনের ভাষ্যমতে সেখানে ৪০টি পোরশে এবং বেন্টলি ছিলো, শুধু মাত্র একজন প্রিন্সেসের জন্য।
সৌদি রাজপরিবারের এসেটের হিসেব কারো জানা নেই। রাফলি একটা আইডিয়া হলো- ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
সৌদি যুবরাজরা অবকাশ যাপনেই নূন্যতম একশো সশস্ত্র বডিগার্ড, ইউ ক্যান সে ‘আর্মি’ নিয়ে যায়। আর কর্মরত অবস্থায় থাকলে এর দ্বিগুন।
সৌদি প্রিন্সেস বাসমাহ্ এর ইললিগ্যাল রিলেশন আমিরাতের এক শেখের সাথে, প্রকাশ্যে ধূমপান সহ নানাবিধ কর্মকান্ড ইউটিউবেই পাওয়া যায়।
প্রিন্স নায়েফ বিন ফায়াজ তার ৭২৭ বোয়িং জেটে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড কোকেইন পাচার করতে গিয়ে ধরাও খেয়েছে। কোর্টে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “The world is already doomed. [I’ve been] authorized by God to sell drugs.”
সৌদি পরিবারের নৃশংসতার প্রমান পাওয়া যায় প্রিন্সেস মিশাল বিনতে ফাহাদ এর কাহিনীতে। পরিবারের অমতে তারই এক সহপাঠিকে বিয়ে করতে যায়। প্রিন্সেসকে তার প্রেমিকের সামনে গুলি করে মারা হয়। তারপর ঐ সহপাঠির মাথা কেটে ফেলা হয়। তখন প্রিন্সেস এর বয়স ছিলো মাত্র ১৯ বছর। বিবিসির রিপোর্ট ছিলো এটা নিয়ে, দ্য ডেথ অফ এ প্রিন্সেস।
হ্যালোউইন সৌদিতে ব্যানড। সৌদির রিলিজিয়াস পুলিশ এই দিন সবদিকে নজর রাখে, কেউ কস্টিউম বিক্রি করছে বা পড়ছে কিনা। কিন্তু নট ফর দ্য রয়াল ফ্যামিলি। উইকিলিকস এর নথিতে পাওয়া যায় ২০০৯ সালে প্রিন্স ফায়সাল আন্ডারগ্রাউন্ড হ্যালোউইন পার্টি করে দেড়শো মানুষ নিয়ে তার প্যালেসে।
মদ নিষিদ্ধ হলেও তা প্রিন্সদের জন্য প্রযোজ্য নয়। ফিলিপিনো বারটেন্ডাররা আসেন, ককটেল বানান তাদের জন্য। স্পেশাল ককটেল যেটা প্রিন্স ফায়সালে প্রিয়, তার নাম ‘সাদেকি’। তাদের ইভেন্ট স্পন্সর করে ইউএস এনার্জি ড্রিংক কিজ-মি। সাথে ডিজে আর কস্টিউম।
প্রিন্স সৌদ বিন আবদুল আজিজ ২০১০ সালে গ্রেফতার হন খুনের দায়। ভিডিও ক্যামে ধরা পরে যে তিনি তার মেইল সারভেন্ট বনদর আজিজকে পিটিয়ে মেরে ফেলার দায়ে। শ্যাম্পেইন আর ‘সেক্স অন দ্য বিচ’ ককটেইলে ফুয়েলড হয়ে ৩৭ বার আঘাতের পর সারভেন্টের মৃত্যু ঘটে। তার বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ পাওয়া যায় ভিকটিমের সাথে। তার শাস্তি হলেও সৌদি পরিবার বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
নিউ ইয়র্ক প্লাজা হোটেলে প্রিন্সের সাথের লোক এক বারমেইড কে ধর্ষন করে। মদ্যপ প্রিন্স তখন কিছু না করলেও পরে তার সাথে ঐ লোকের সম্পর্ক অস্বীকার করে।
সৌদি আরবে বেকারের সংখ্যা প্রতি তিনজনে একজন। আর দেশে আছে সাড়ে সাত হাজার প্রিন্স আর তিন হাজার প্রিন্সেস।
উপরের সবকিছু একটা ধারনা মাত্র। তো এরকম এক প্রিন্সের জন্য হাজার খানেক হজ্বযাত্রী পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া খুবই সাধারন ব্যাপার। তারপর সেই লাশ বুলডোজার দিয়ে ময়লার মত সরিয়ে নেয়াও স্বাভাবিক জিনিষ। তারপর দায় এড়াতে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বলা, ‘সব দোষ হজ্বযাত্রীদের’ এটাও স্বাভাবিক। যারা পুরো দেশের নাম বদলে নিজেদের নামে দেয়, তাদের ঔদ্ধত্য দেখলে অবাক হবার কারন নেই। কারন স্তুপ করা সেই মৃতদেহ গুলোর দাম তেলের দামের কাছে হার মানে তাদের কাছে।
আপডেট : সৌদি আরবের মিনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনার পর থেকে ৯৮ জন বাংলাদেশি হাজি নিখোঁজ আছেন। হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজা হলেও এখন পর্যন্ত এদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।


প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার এর লেখনীতে

ফেসবুকেই পেলাম তথ্যগুলো। এরপরও সৌদী আরবের রাজতন্ত্র অমর
“শয়তানকে পাথর মারার জন্য প্রবেশ ও বাহিরের মোট চারটা পথ। দুইটা পথের বাহির বন্ধ করে দেওয়া হয় সৌদি প্রিন্স সালমান তার বিশাল বহর নিয়ে শয়তানকে পাথর মারতে এসেছিল বলে।
ফলে চারটা প্রবেশ মুখ দিয়েই হাজিরা ঢুকেছে কিন্তু তারা জানেই না সামনের দুইটা পথের বাহির বন্ধ। যারা সামনে গিয়েছে তারা ইতিমধ্যে আটকা পড়ছে এবং তাদের পক্ষে পিছনের হাজিদের চাপ রক্ষা করা সম্ভব ছিল না। পালিয়েও যাওয়া ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার।
পিছন থেকে ব্যাপক চাপ আসতে থাকায় সামনে লাশের স্তূপ শুরু হয়েছে। কেউ কেউ লাশের উপর দিয়ে উঠে প্রানে বাঁচতে চেয়েছিল, কিন্তু পারে নাই। মৃতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সৌদি প্রশাসন তা প্রকাশ করা থেকে বিরত আছেন। নিজেদের কুকর্ম ঢাকার জন্য।
এখনও কিছু ওয়ায়েবী চামচা এই মৃত্যুকে জায়েজ করার চেষ্টা করবে। রহমতের তকমা দিবে, বলবে সবাই বেহেশতে চলে গেছে। কিন্তু মৃত্যুকে তারা হত্যাকাণ্ড হিসাবে দেখার চেষ্টা করবে না।
এই যে বিপুল পরিমান মানুষ মারা গেল, প্রায় ১৩০০ জন মানুষ, এইটা বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও হলে আল্লাহর গজব বলে ব্যাপক প্রচার পাইত। দেশের প্রতিটা নিউজ পেপার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাভার দিত। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখি সব জাতীয় দৈনিক থেকে নিউজ হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
আসলেই ধর্মের কাছে মানুষের বিবেক বুদ্ধি সব কিছু বন্দি। সকল মৃত্যুই জায়েজ হয়ে যায় শুধু ধর্মের ছোঁয়া থাকলে।’


সোশ্যাল মিডিয়া বিভিগে আপনার/ আপনার পরিচিত কোন বন্ধুর লেখা প্রকাশ করতে চাইল আমাদের ফেসবুক পেজ আইটি শিক্ষা IT Shikkha তেমেসেজ করুন। ভিন্ন যে কোন মতামত আমরা যে কোন সময় ই আপডেটপ করবে । ধন্যবাদ সকলকে ।

মেহের নিগার
চলার পথে কখন প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি জানি না । আইটি শিক্ষায় আমাকে প্রযুক্তির পথে দিয়েছে উৎসাহ আর অনুপ্রেরনা। তাই আইটি শিক্ষার জন্য লিখি। ধন্যবাদ আইটি শিক্ষাকে ।

No comments

Leave a Reply

ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের পোষ্ট সমুহ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ফেইসবুকে আমরা