আইটি শিক্ষা মেনু

ওয়েবসাইট লোডিংযের সময় বা গতি বাড়ানোর উপায়

ওয়েব সাইটের ভিজিটর ধরে রাখার একটি উপায় হোচ্ছ ওয়েবসাইটের লোডিং হওয়ার সময় হ্রাস করা। ওয়েবসাইটের লোডিং সময় হ্রাসের ফলে ওয়েবসাইটের পেইজ ভিউ,ভিজিটরদের সন্তুষ্টি এবং কনভার্সন রেট উন্নতি হবে । শুধু মাত্র গুগলে পেইজ র‌্যাংক উন্নত হওয়ার জন্যই নয় ওয়েবসাইটের আয় বৃদ্ধির জন্যও ওয়েবসাইটের গতি অনন্য ভুমিকা রাখে । ওয়েবসাইটের গতি বৃদ্ধির জন্য নিচের উল্লেখিত ১০টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করুন ।

১ এইচটিটিপি রিকুয়েষ্ট কমিয়ে আনুন
ইয়াহুর মতে ৮০% ওয়েব পেইজের লোডিং এর সময় ব্যায় হয় বিভিন্ন ওয়েব পেইজের বিভিন্ন উপাদান যেমন ছবি. স্টাইলশীট, স্ক্রিপ্ট, ফ্লাশ ইত্যাদি ডাউনলোড হতে । এইচটিটিপি রিকুয়েষ্ট এই উপাদানগুলোর উপর নির্ভর করে। তাই পেইজে যত বেশী উপাদান
থাকেবে ততবেশী সময় নিবে সাইট লোড হওয়ার জন্য। তাই সাইটের স্পিড বৃদ্ধির জন্য নিম্ন লিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিন

ক. সাইটের উপাদান সংখ্যা যথাসম্ভব সীমাবদ্ধ রাথুন

খ. অসংখ্য সিএসএস এর পরিবর্তে একটি সিএসএস ফাইল ব্যবহার করুন
গ. স্ক্রিপ্টের সংখ্য কমিয়ে আনুন

সার্ভার সাড়া (response) দেওয়ার সময় কমিয়ে আনুন সার্ভার রেস্পন্সের আদর্শ সময় হচ্ছে ২০০মিলিসেকেন্ড। নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করে খুব সহজে সার্ভারের সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনতে পারেন।

১. ওয়াইস্লো (লিংক) ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং এর সময় কমিয়ে আনতে পারেন।
২. গুগল পেইজস্পিড টুল (লিংক) ওয়েবসাইটের লোডিং সময় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে পারবেন ।

ওয়েবসাইটকে কম্প্রেস করুন
যেসকল ওযেবপেইজে অনেক বেশী কন্টেন্ট থাকে সেই সব পেইজের আকার সাধারণত বেশী থাকে । একবেশী কন্টেন্ট ডাউনলোড হতে সময় বেশী লাগে। এই ধরনের ওয়েবসাইটের লোডিং এর সময় উন্নতি করার একটি সহজ উপায় হচ্ছে কম্প্রেস করা। কম্প্রেসনের মাধ্যমে আপনার সাইটের ব্যন্ডউইডথ কম খরচ হবে । এই কাজটি করা হয় মুলত এইচটিটিপি রিকুয়েষ্টের সংখ্যা কমিয়ে।ওয়েবসাইট কম্প্রেস করার জন্য অসাধারণ একটি টুল হচ্ছে জিজিপ অধিকাংশ ওয়েবসার্ভার জিজিপ ফরম্যাটে ওয়েবসাইটকে কম্প্রেস করে থাকে । ইয়াহু এর মতে এটি ডাউনলোডের সময় প্রায় ৭০% কমাতে সক্ষম।প্রায় ৯০% ওয়েব ব্রাউজারই জিজিপ সাপোর্ট করে।

ব্রাউজার ক্যাশিং
আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন তখন সেই ওয়েবসাইটটি আপনার অস্থায়ী ফাইলের স্মৃতিতে ডাউনলোড করা থাকে । আপনি যখন পুনরায় সেই ওয়েবসাইট ভিজিট করেন তখন অস্থায়ী মেমোরি থেকেই সাইটটি লোড হয় ।যা সাইটের স্পিডকে বাড়িয়ে দেয়। তাই সাইটের লোডিং এর সময় কমানোর জন্য ব্রাউজার ক্যাশিং অন করে রাখুন

রিসোর্সগুলো যথাসম্ভব ছোট রাখুন
বিভিন্ন ধরনের এডিটরের কারনে ওয়েব পেইজ তৈরী এখন অনেকটাই সোজা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অনেকসময় এই এডিটরগুলো অনেক অপ্রয়োজনীয় কোড তৈরী করে যা আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং এর সময়কে বাড়িয়ে দেয়। তাই চেষ্টা করুন আপনার ওয়েবসাইটের
বিভিন্ন রিসোর্স যেন সিএসএস জাভা স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি ছোট রাখার ।

ছবি সাইজ কমিয়ে রাখুন
ওয়েবসাইটের জন্য ছবি একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। ছবির যথাযত ব্যবহার আপনার ওযেবসাইটকে করে তুলে আকর্ষনীয়। কিন্তু ছবিই হয়ে উঠতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের এসইও এর জন্য নেগেটিভ ফ্যাক্টর। তাই ওয়েবপেইজে ছবি যুক্ত করার সময় ছবির সোর্স,
সাইজ, এবং ফরম্যাটকে গুরুত্ব দিন ছবির সাইজ: বড় সাইজের ছবি ওয়েব পেইজে লোডিং এর সময় বৃদ্ধি করে। তাই সঠিক
সাইজের ছবি আপলোড করুন । যেমন আপনার ওয়েব পেইজের সাইজ যদি ৫৭০ পিক্সেল হয় তবে সেই সাইজের ছবিই ব্যবহার করুন । ২০০০ পিক্সেলের ছবি আপলোড করে এইচটিএমএল বা সিএসএসের মাধ্যমে ছবি ছোট করবনে না বরং আগে থেকেই ছবি এডিটিং সফটওয়্যার এর সাহায্যে নিদির্ষ্ট মাপের ছবি ব্যবহার করুন ।

ছবির ফরম্যাট
ক. jpeg ওয়েব পেইজের জন্য আদর্শ ফরম্যাট।
খ. png ওয়েব পেইজে ব্যবহার করা যায় কিন্তু পুরাতন ব্রাউজারের কয়েকটিতে এই ফরম্যাট সমর্থন করে না ।
গ. gig ছোট (১০x১০ পিক্সেল) অ্যানিমেটেড ছবির জন্য ভাল ।
ঘ. BIMP বা TIFF ফরম্যাট ব্যবহার না করাই উত্তম

ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য WP Smush.it plugin ব্যবহার করে ছবির লোডিং এর সময় কমিয়ে আনা যায়।

সিএসএস সরবরাহ

সিএসএস এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য্য প্রকাশিত হয়। সিএসএস মুলত দুইভাবে দেওয়া যায় । একটি এক্সটার্নাল অন্যটি ইন্টারনাল যা এইচটিএমএল এর ভিতরেই খাকে । এক্সাটার্নাল সিএসএস ব্যবহার করুন । ইন্টারনাল  সিএসএস আপনার ফাইলের সাইজকে বৃদ্ধি করবে ।

রিডিরেক্ট বন্ধ রাখুন
রিডিরেক্টের কারনে এইচটিটিপি রিকুয়েষ্টের সংথ্যা বৃদ্ধি পায়। তাই চেষ্টা করুন রিডিরেক্ট বন্ধ রাখতে । স্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস ফাইলকে ফোল্ড করুন একটিমাত্র সিএসএস ফাইল , পেইজের প্রথমেই স্ক্রিপ্ট আপনার ওয়েবসাইটের গতি বৃদ্ধি করবে । অনেকেই বিভিন্ন স্ক্রিপ্টকে ফুটার এ রাখেন ।

প্লাগিনের সংখ্যা কমিয়ে আনুন
অনেক বেশী প্লাগিন বা অ্যাডনস আপনার সাইটকে অপেক্ষাকৃত ধীরগতি ও সিকিউরিটির সমস্যা এবং বিভিন্ন জটিলতা তৈরী করে আপনার সাইটকে অনেক দুর্বল করে তুলে। তাই অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন বা অ্যাডন্স মুছে দিন ।

ওয়েবসাইটের ভিজিটর ধরে রাখার জন্য ওয়েবপেইজ লোডিং এর সময় অত্যন্ত গুরত্বপুর্ণ ।ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার জন্য আরও অনেকগুলো বিষয় রয়েছে।  ওয়েবসাইটে ভিডিটর ধরে রাখতে পড়ুন : ওয়েবসাইট এ ভিজিটর ধরে রাখার সাতটি উপায়

মেহের নিগার
চলার পথে কখন প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি জানি না । আইটি শিক্ষায় আমাকে প্রযুক্তির পথে দিয়েছে উৎসাহ আর অনুপ্রেরনা। তাই আইটি শিক্ষার জন্য লিখি। ধন্যবাদ আইটি শিক্ষাকে ।

No comments

Leave a Reply

ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের পোষ্ট সমুহ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ফেইসবুকে আমরা