আইটি শিক্ষা মেনু

আপওয়ার্ক টিপস : কিভাবে সফল হবেন?

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে  আপওয়ার্ক । এই আর্টিকেলে আপওয়ার্কে সফল হওয়ার জন্য কিছু টিপস এবং ট্রিকস নিয়ে আলোচনা করা হল। আবার অনেকের ভুল ধারনা আছে অনলাইন মার্কেট প্লেস বলতে শুধু আপওয়ার্ককেই বুঝে থাকেন। আপওয়ার্ক ছাড়াও অসংথ্য মার্কেটপ্লেস আছে। এক একটি এক এক কারণে বিখ্যাত। অনলাইন মার্কটপ্লেসগুলো সম্পর্কে জানতে পড়ুন

সেরা অনলাইন মার্কেট প্লেস

সুনামই সবকিছু

আপনি যেখানেই ব্যবসা করতে যান হোক সেটা আপনার এলাকায় কিংবা অনলাইনে আপনার পুর্ববতী অভিজ্ঞতা, সুনাম আপনার ভবিষ্যত অন্যতম চাবিকাটি।একজন ফ্রি লান্সারের পুর্ববতী সফলতার ইতিহাস মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার জন্য সহায়ক ভুমিকা পালন করে । বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রাহকগণ নুতন ফ্রি ল্যান্সারদের নিয়োগ দিয়ে থাকে ।
নতুন প্রজেক্ট শুরু করার আপনাকে যা জানতে হবে

যেকোন কাজ সম্পর্কে উতসাহী এবং কাজকে ভালবাসলেই আপনি ফ্রি ল্যান্সিং জগতে টিকে থাকতে পারবেন । তার মানে এই নয় যে আপনার সামনে যে সকল প্রজেক্ট আসবে সবগুলোতেই আবেদন করবেন এবং যে কোন ধরনের যেকোন রেটে কাজ করার জন্য সম্মত হবেন। আপনি শুধু সেসকল প্রজেক্টেই আবেদন করবেন বা গ্রহন করবেন যে সকল প্রজেক্ট আপনার জন্য সন্মানজনক এবং আপনি অত্যন্ত নিখুতভাবে করতে পারবেন । তাই কাজ শুরু করার আগে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন
১. কাজটি সম্পর্কে আগে জেনে নিন

কাজটি সম্পন্ন করার জন্য কি কি প্রয়োজন হবে , কি কি দক্ষতার প্রয়োজন সেসকল দক্ষতা আপনার আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই আবেদন করুন ।

২.কাজের সময়সীমা সম্পর্কে বিবেচনা করুন
কাজের সময়সীমা সম্পর্কে জেনে নিন। কাজটি করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং গ্রাহকের বেধে দেওয়া সময়সীমা দুটির মধ্যে সম্বন্বয় করুন। পারিবারিক বা অন্যকোন কারণে আপনি যদি সেই সময় ব্যস্ত থাকেন তবে কাজটি না নেওয়াই শ্রেয়।

৩. নিজের কাছেই স্বচ্ছ ধারণা তৈরী করুন

এটা আপনি কাজ জানেন এটিই যথেষ্ট নয় বরং গ্রাহকের কাছে প্রমান করুন কেন আপনি এই কাজের জন্য যোগ্য।আপনার প্রোফাইল, কাভার লেটার, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ইত্যাদি আপনাকে গ্রাহকের কাছে যোগ্য করে তুলবে।

৪.গ্রাহককে বুঝার চেষ্টা করুন

আপনার গ্রাহকের চাহিদা কি তা ইন্টারভিউ এর সময় বুঝার চেষ্টা করুন । আপনার দক্ষতার সাথে গ্রাহকের চাহিদার মিল থাকলেই প্রজেক্টটি গ্রহণ করুন।

৫. সময় ব্যবস্থাপনা করুন

দিনে ২৪ ঘন্টা সময় থাকে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ২৪ ঘন্টা কাজ করা সম্ভব না । আপনার হাতে কাজ করার মত কতটুকু সময় আছে এবং সেই সময়ে গ্রাহক সন্তুষ্ট কিনা তা বিবেচনায় রাখুন। বিদ্যুত সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, ব্যাক্তিগত সমস্যা বাদ দিয়ে কতক্ষন কাজ করতে পারবেন তা বিবেচনা করুন ।

নতুন প্রকল্প শুরুর সময় যা লক্ষ্য রাখবেন

সঠিকভাবে শুরু করাটাই চ্যালেন্জিং। যোগাযোগ ব্যবস্থা সঠিক শুরুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। ফ্রি-ল্যান্সারগণ কাজ শুরুর করার জন্য নিচের পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করতে পারেন।
১. মিটিং বা আলোচনা

স্কাইপ, গুগল হ্যাঙ্গআউট বা ফোন যেভাবেই আলোচনা করুন না কেন প্রজেক্টের সময়সীমা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হউন।

২.একসাথে কাজ কিভাবে করবেন
গ্রাহকের সাথৈ ভবিষ্যতে কিভাবে যোগাযোগ করবেন, কিভাবে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করবেন, কোন তথ্যের প্রয়োজন হলে কিভাবে পাবেন তা গ্রাহক থেকে জেনে নিন।

৩. আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন

আপনি প্রয়োজনীয় সকল প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরী করুন।মিটিং এর সময় আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য বা উপাত্ত গুলো ক্লায়েন্ট থেকে সংগ্রহ করে নিন। যেমন পাসওয়ার্ড, অনুমতি, যোগাযোগের তথ্য ইত্যাদি ।

৪. বাস্তবতা মানুন

প্রজেক্ট চলাকালীন সময়ে যদি কোন সময় বুঝতে পারেন আপনি প্রজেক্টটি শেষ করতে পারবেন না বা প্রজেক্টের কোন অংশ আপনার দ্বারা সম্ভব হবে না তাহলে গ্রাহককে সাথে সাথে জানিয়ে দিন যেন গ্রাহক বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতে পারেন ।

প্রজেক্ট চলাকালীন সময়ে যা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

যোগাযোগ, সন্মান এবং দ্বায়িত্বশীলতা সফল ফ্রিল্যান্সারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য

১. সক্রিয় থাকুন
ক্লায়েন্টর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন ।তাকে মাঝে মাঝেই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করুন ।যদি ক্লায়েন্ট আপনাকে জিজ্ঞাসা না করে তবুও নিজ দ্বায়িত্বে তাকে জানান আপনি কাজটি করে যাচ্ছেন
২. সময়সীমা সম্মান করুন

নিদির্ষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন। মনে রাখুন আপনি ক্লায়েন্টের সাথে একমত হয়েই কাজটি গ্রহণ করেছেন। আপনি সঠিক সময়ে কাজটি শেষ করতে না পারলে ক্লায়েন্টেরও সমস্যা হতে পারে। যদি কোন কারণে না পারেন তবে শেষ করতে কতসময় লাগে তা সুনিদির্ষ্ট করে দিন ।

৩.প্রশ্ন করুন

কোন বিষয় নিয়ে কোন সন্দেহ থাকলে তা ক্লায়েন্টকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করুন । ভীত হবেন না বরং এই প্রশ্নগুলোই আপনাকে সক্রিয় এবং আত্নবিশ্বাসী করতে সহায়তা করবে ।

৪.দায়িত্ব নিয়ে কাজ করুন

ক্লায়েন্টের মেসেজ বা কোন কারনে আপনাকে খুজলে চেষ্টা করুন একদিনের মধ্যেই যোগাযোগ করুন । ক্লায়েন্ট কোন ফ্রি ল্যান্সারের কাছ থেকে উত্তর না পেলে অনেক ক্ষেত্রে দু:শ্চিন্তা হতে পারেন । একটি ফ্রীলান্সার থেকে শুনতে না হলে ক্লায়েন্ট সংশ্লিষ্ট পেতে পারে.

৫. মতামত জানুন
আপনার কাজ কেমন হচ্ছে , কোন সমস্যা আছে নাকি সে বিষয়ে গ্রাহককে জিজ্ঞাসা করুন । তা আপনার গ্রাহকের মনে এই ধারণা তৈরী করবে যে আপনি আপনার সর্বোচ্চ মানের কাজ সরবরাহ করতে প্রস্তুত।
প্রজেক্ট শেষে যা করা উচিত

প্রথম দৃষ্টিতে আপনি গ্রাহকের কাছে একটি কাজের চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। কাঝ শেষে চেষ্টা করুন গ্রাহককে ভবিষ্যতে একই ধরনের কাজের জন্য আপনার কাছে ফেরত আনার জন্য চেষ্টা করা
১.ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি নিশ্চিত করুন

আপনি যখন প্রজেক্ট শেষ করবেন তখন আপনার গ্রাহককে জিজ্ঞাসা করুন আপনার কাজে তার কি মনে হয়েছে, আপনি তার প্রত্যাশা পুরণ করতে পেরেছেন কিনা,যদি কোন সমস্যা থাকে তা ঠিক করে দিন । আপনি যদি ভালবাবে আপনার গ্রাহককে সন্তুষ্ট করতে পারেন তবে গ্রাহক আপনাকে ভাল রেটিং প্রদান করবেন ।
২. ক্লায়েন্ট চুক্তি শেষ করুন

আপনি প্রজেক্ট জমা দেওয়ার পর যদি গ্রাহক তা অনুমোদন করে, তখন তাকে চুক্তি শেষ করার প্রস্তাব দিন । চুক্তি শেষে ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে ভাল রেটিং প্রদান করবে তখন আপওয়ার্কে আপনার ভবিষ্যত গ্রাহকদের সম্পর্কে একটি ভাল ধারনা তৈরী হবে ।

একটি ভাল ফিডব্যাক আপওয়ার্কে ভবিষ্যত ক্লায়েন্ট তৈরীতে অনেক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাই আপনি যদি আপওয়ার্ক এ নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করতে চান উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করে ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে আশা করি । আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন । ধন্যবাদ সবাইকে

এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

মেহের নিগার
চলার পথে কখন প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি জানি না । আইটি শিক্ষায় আমাকে প্রযুক্তির পথে দিয়েছে উৎসাহ আর অনুপ্রেরনা। তাই আইটি শিক্ষার জন্য লিখি। ধন্যবাদ আইটি শিক্ষাকে ।

No comments

Leave a Reply

ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের পোষ্ট সমুহ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ফেইসবুকে আমরা