আইটি শিক্ষা মেনু

অনপেজ এসইও এর ১০ টি কৌশল

আপনি যদি আপনার ব্লগপোষ্টটি কিওয়ার্ড টার্গেটেড করতে চান যেন সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে তার র‌্যাংকিং এ এগিয়ে রাখে ?

উত্তর যদি হ্যা হয় তবে আপনাকে নিদির্ষ্ট কিওয়ার্ডে কিভাবে ব্লগপোষ্টকে এগিয়ে রাখা যায় তার গোপনসুত্রগুলো জানতে হবে।

আপনি যখন আপনার সাইটের এসইও করতে যাবেন তখন দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। একটি অনপেজ এসইও অপরটি হচ্ছে অফপেজ এসইও। এই পোষ্টটি অনপেজ এসইও এর কয়েকটি কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে যা আপনার ব্লগপোষ্টের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

অনপেজ এসইও কেন গুরু্ত্বপুর্ণ

অনপেজ এসইও কেন গুরুত্বপুর্ণ জানার আগে আসুন জেনে নেই এই পোষ্ট থেকে কি জানতে পারবেন ? এই পোষ্টটি আপনাকে একটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজড় পোষ্ট লিখতে সহায়তা করবে ।

একমিনিট চিন্তা করুন, আপনার ওয়েবসাইটে যখন কোন পোষ্ট পাবলিশড হয় তখন গুগল কেন তাকে প্রথমে রাখে না কিংবা প্রথমে রাখে ?

আমরা যখন কোন পোষ্টের জন্য এসইও করি, এর মানে হচ্ছে আমরা কিছু প্রমানিত নিয়ম অনুসরণ করি যেন সার্চ ইঞ্জিনসমুহ সেই পোষ্টটিকে প্রথমে দেখায়। যদিও এখন গুগলে র‌্যাংকিং শুধু মাত্র এসইও স্কোরের উপর নির্ভর করে না বরং বিভিন্ন ফ্যাক্টর যেমন সোশ্যাল মিডিয়া ভোট, ব্যাকলিংক, ডোমেইন অথরিটি এবং অন্যান্য অনেক অফপেজ এসইও এর উপর নির্ভর করে । এই পোষ্টে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের আর্টিকেলগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে কিন্তু স্মার্ট পদ্ধতিতে এসইও এর জন্য উপযোগী করা যেন সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজেই ফোকাস কিওয়ার্ডটি খুজে বের করে এবং অপ্রাস্ঙগিক লং টেইল কিওয়ার্ডের পরিবর্তে সঠিক কিওয়ার্ড দিয়ে সাইটটি র‌্যাংকিং এ আসে যা নিদির্ষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করবে ।

১০ টি অনপেজ এসইও টেকনিক

এখানে অনপেজ এসইও এর সেরা ১০ টি টেকনিক নিয়ে আলোচনা করা হল । আপনার ব্লগপোষ্টটিকে এসইও এর জন্য অপটিমাইজড করতে হলে নিচের ১০ টি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

১. ব্লগপোষ্ট টাইটেল
সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ অনপেজ এসইও ফ্যাক্টর । ব্লগ পোষ্ট টাইটেলটি এমনভাবে লিখা উচিত যেন আমাদের টার্গেটেড কিওয়ার্ডটি অবশ্যই টাইটেলের শুরুতে থাকে । এখানে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হচ্ছে গুগল ইয়াহু বা বিং এ ভাল র‌্যাংকিং এর জন্য কিওয়ার্ড টাইটেল ট্যাগে বারবার উল্লেখ করা উচিত নয়। টাইটেল ট্যাগ স্পেসসহ ৬৫ ক্যারেক্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত ।

২. পোষ্ট পার্মালিংকের গঠন
টাইটেল ট্যাগের পর যেই বিষয়টি গুরুত্বপুর্ণ তা হচ্ছে ইউআরএল এর গঠন। এখানেও আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ডটি ইউআরএল এর প্রথমেই রাখা উচিত। বিভ্নি স্পেশাল ক্যারেক্টার, সিম্বল, ব্রাকেট, কমা ইত্যাদি ইউআরএল থেকে বাদ দিবেন । তবে (-) ড্যাশ চিহ্ন দুটি শব্দকে আলাদা করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য রাখবেন আপনার ইউআরএল এর গঠন যেন সুন্দর হয়।

৩.হেডিং ট্যাগ
বিভিন্ন হ্যাডিং , সাব-হেডিং, গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টসমুহকে চিহ্ণিত করার জন্য h2, h3 এবং h4 ইত্যাদি ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে । ওয়ার্ডপ্রেসে কোন পোষ্টে টাইটেল হিসাবে h1 ব্যবহৃত হয় । তাই বডি সেকশনে আর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। h2, h3 ট্যাগের অতিরিক্ত ব্যবহার এসইও এর জন্য নেগেটিভ ।

৪.কিওয়ার্ডের ঘনত্ব
কিওয়ার্ডের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ১.৫% রাখা উচিত এবং এর সাথে এলএসআই কিওয়ার্ড(LSI=Latent semantic indexing keywords যা প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ডকে নির্দেশ করে) মিশ্রন রাখা উচিত । মুল কিওয়ার্ডটি প্রথম অনুচ্ছেদে এবং শেষ অনুচ্ছেদে অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত । গুরুত্বপুর্ণ কিওয়ার্ডকে বোল্ড,ইটালিক, আন্ডারলাইন করতে হবে ।

৫.মেটা ট্যাগ
মৌলিক মেটা কিওয়ার্ড এবং মেটা ডিস্ক্রিপশন আপনার সাইটের এসইও এর মান অনেকাংশে বাড়িয়ে দিবে । আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড মেটা ডিসক্রিপশন এবং মেটা কিওয়ার্ড সেকশনে অবশ্যই ব্যবহার করবেন । মেটা ডিসক্রিপশন ট্যাগ এমন হওয়া উচিত যেন তা আপনার ব্লগপোষ্টের সারাংশ প্রকাশ করে । স্পেসসহ ১৬০ ওয়ার্ডের মধ্যে মেটা ডিসক্রিপশন লিখতে হবে এবং তা ব্যবহারকারী বান্ধব হতে হবে তাহলে সিটিআর (Click Through Rate) বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন মেটা কিওয়ার্ডকে পছন্দ করলেও গুগলে বর্তমানে মেটা কিওয়ার্ডের গুরুত্ব নেই ।

৬. ছবি যুক্ত করা
ছবিতে Alt টেক্সট যুক্ত করার ফলে এসইও এর মান বৃদ্ধি করা যায়। বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে Alt ট্যাগ এবং ছবির টাইটেল ট্যাগ ব্লগপোষ্টটিকে অনেকবেশী ফোকাস করে । তবে ছবি ব্যবহারের সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত যেন তা সাইটকে ধীরগতি সম্পন্ন করে না দেয়। ধীরগতি আপনার ওয়েবসাইটকে র‌্যাংকিং এ পিছিয়ে রাখবে ।

৭.প্রতি পোষ্টে শব্দের সংখ্যা
স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রবন্ধ সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম দিকে কম থাকতে দেখা যায়। তাই নুন্যতম ৭০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল স্টান্ডার্ড হিসাবে ধরা উচিত। সম্ববহলে বড় এবং গবেষনা ধর্মী প্রবন্ধ লিখুন । উচ্চ প্রতিযোগীতামুলক কিওয়ার্ডের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। অন্যদের পোষ্ট দেখুন, তার কি ভুল করেছে তা খেয়াল করুন।

৮. কন্টেন্ট লিংকিং
আপনার ব্লগের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক লিংক আপনার আর্টিকেলে যুক্ত করুন। তা আপনার পেজের র‌্যাংক এবং ট্রাফিক বৃদ্ধি করবে। নিজের সাইটের মধ্যে বিভিন্ন লিংক আপনার পাঠকদের অধিকসময় সাইটে ব্যয় করতে সাহায্য করবে । তবে তা অতিরিক্ত মাত্রায় করবেন না । লিংক করার সময় অবশ্যই কিওয়ার্ডের সাথে যুক্ত অ্যাংকর টেক্সটের প্রতি নজর দিন । অ্যংকর টেক্সটে ভিন্নতা আনুন।

৯.বাহিরের ওয়েবসাইটের সাথে লিংক করুন
আপনার ওয়েবসাইটের নিজের ভিতর লিংক করার পাশাপাশি বাহিরের ওয়েবাসাইটের সাথে লিংক করুন। যা আপনার ব্লগের পাঠকদের একই ধরনের আরও তথ্য পেতে সহায়তা করবে। আপনি যখন বাইরের ওয়েবসাইটকে লিংক করবেন তখেন একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা উচিত বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের সাথে লিংক করবনে । আপনার যদি কোন ওয়েবসাইটের অথরিটি ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সন্দেহ থাকে তবে নো ফলো ট্যাগ ব্যবহার করুন। যদি কোন সোর্স না পান তবে চেষ্টা করুন উইকিপিডিয়ার আর্টিকেলের সাথে লিংক করার।

১০. আলোচিত পোষ্ট লিখুন
আপনার পোষ্টটি এমন হওয়া উচিত যেন তা নিয়ে পাঠকরা আলোচনা করে। আলোচিত বিভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে যেমন আপনার পোষ্টেই পাঠকদের বিভি্ন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন । আপনি যদি পাঠকদের আলোচনায় আনতে না পারেন তবে পাঠকরা বেশী সময় আপনার সাইটে ব্যায় করবে না । ফলে বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যা এসইও নেগেটিভ ফ্যাক্টর

অনপেজ এসইও চেকলিষ্ট
সার্চ ইঞ্জিনের র‌্যাংকিং এ উচ্চ স্থানে আসার জন্য নিচের অনপেজ এসইও চেকলিষ্ট অনুসরণ করতে পারেন

কিওয়ার্ডের অবস্থান
১. টাইটেলে কিওয়ার্ডের ব্যবহার
২. পার্মালিংকে কিওয়ার্ডের ব্যবহার
৩. ছবিতে Alt ট্যাগ ব্যবহার
৪. h2,h3 ট্যাগে কিওয়ার্ডের ব্যবহার
৫.গুরুত্বপুর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ডগুলোকে বোল্ড করা
৬.১/২ টি গুরুত্বপুর্ণ কিওয়ার্ডকে ইটালিক করা
৭.উচ্চমানের সাইটের সাথে লিংকিং করা
৮.নিজ সাইটের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলের সাথে লিংক করা
৯.পার্মালিংকে বিশেষ চিহ্ণ বাদ দেওয়া
১০. ভিডিও,স্লাইড, ইনফোগ্রাফিক যুক্ত করা
১১. নুন্যতম ৭০০ ওয়ার্ডের আটিকেল লিখা
১২. ছবিকে ছোট এবং রিসাইজ করে আপলোড করা
১৩. পেজ লোডিং এর সময়
১৪. এলএসআই কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন

অন্যান্য বিষয়
১. মেটা টাইটেল ৬৫ ক্যারেক্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন
২. মেটা ডিস্ক্রিপশন ১৫০ ক্যারেক্টারের মধ্যে রাখুন
৩. আপনি যদি কোন সোশ্যাল প্লাগিন ব্যবহার করেন তবে ফেসবুক টুইটারের জন্য ছবি যুক্ত করুন
৪.আপনার পোষ্টের নিচে সোশ্যাল শেয়ার বাটন যুক্ত করুন
৫. বাউন্সরেট কমানোর জন্য পোষ্টের নিচে প্রাসঙ্গিক পোষ্ট রাখুন

যেসব বিষয় অবশ্যই বাদ দিবেন
১. একের অধিক H1 ট্যাগের ব্যবহার
২. H2, H3 ট্যাগের পুনরাবৃত্তি
৩.কিওয়ার্ডের ঘনত্ব ১.৫০% এর বেশী রাখবেন না

মনযোগ দিতে হবে
১. পোষ্ট টাইটেলের শুরুতে কিওয়ার্ডের ব্যবহার
২. লং টেইল কিওয়ার্ড
৩. আপনি যদি সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য আর্টিকেল লিখেন তবে পোষ্টে তারিখ বাদ দিন
৪. কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য নুন্যতম ৭০০ শব্দের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন । তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কন্টেন্টের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করবেন না
৫. পোষ্টের নিচে পাঠকের মতামত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন

উপরিউক্ত বিষয়গুলো যুক্ত করার মাধ্যমে আপনার সাইটের অনপেজ এসইও সম্পুর্ণ করুন । মনে রাখবেন অনপেজ এসইও সাইটের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। অনপেজ এসইও সম্পন্ন করার পর নিয়মিত এসইও অডিট করুন । এসইও অডিট সম্পর্কে জানতে এবং প্রফেশনাল এসইও অডিট সম্পর্কে পড়ুন : এসইও অডিট পদ্ধতি । আপনার যদি অন্য কোন প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে তবে কমেন্টের মাধ্যমে জানান।

এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন

মেহের নিগার
চলার পথে কখন প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি জানি না । আইটি শিক্ষায় আমাকে প্রযুক্তির পথে দিয়েছে উৎসাহ আর অনুপ্রেরনা। তাই আইটি শিক্ষার জন্য লিখি। ধন্যবাদ আইটি শিক্ষাকে ।

3 comments

  1. Amir Hamjah says:

    খুব সুন্দর একটি পোস্ট। পোস্টটি পড়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারলাম। ধন্যবাদ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

  2. ShakilMax says:

    great article thanks.

Leave a Reply

ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের পোষ্ট সমুহ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

ফেইসবুকে আমরা